সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
সরকারি কর্মকাণ্ডে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের অধীনে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে (প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু) মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টেমস ভ্যালি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, নরফোকে তাদের তল্লাশি অভিযান শেষ হয়েছে ও বর্তমানে তাকে ‘তদন্তের অধীনে মুক্তি’ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, তারা ইংল্যান্ডের নরফোক থেকে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে বার্কশায়ার ও নরফোকের বেশ কিছু ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। আইলশাম থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রাক্তন এই রাজপুত্রকে একটি গাড়ির পিছনের সিটে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এটিই অ্যান্ড্রুর জীবনে প্রথম গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা।
টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের’ পর এখন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এই গ্রেপ্তারটি সরাসরি কোনো যৌন অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি একটি সরকারি অফিসে থাকাকালীন অসদাচরণের বিষয়ে তদন্তের অংশ।
ভাইয়ের গ্রেপ্তারের খবরে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজপরিবার এই তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। রাজা এক বিবৃতিতে বলেন, `আইন অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলবে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমার পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে।‘ বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবেন না।
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূত্র ধরে। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত থাকাকালীন অ্যান্ড্রু এপস্টাইনের সঙ্গে বেশ কিছু সংবেদনশীল সরকারি প্রতিবেদন ও আফগানিস্তানে খনিজ বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোপন তথ্য শেয়ার করেছিলেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে। বাণিজ্য দূত হিসেবে এই ধরনের তথ্য গোপন রাখা ছিল তার আইনি দায়িত্ব।
এছাড়া ফেব্রুয়ারির শুরুতে পুলিশ জানিয়েছিল, তারা একটি পৃথক অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ সালে এপস্টাইন দ্বিতীয় একজন মহিলাকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন মিলনের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন।
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন, তিনি এপস্টাইন ফাইল থেকে পাওয়া নতুন তথ্যসমূহ ব্রিটিশ পুলিশকে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি রাজপরিবারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ভার্জিনিয়া গিফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস এই গ্রেপ্তারকে ‘বেঁচে থাকাদের জন্য জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে অ্যান্ড্রু রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে আসেন এবং ২০২২ সালে তার সামরিক উপাধি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারান। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার রাজকীয় উপাধিও কেড়ে নেওয়া হয়। ৬৬তম জন্মদিনে গ্রেপ্তারের এই নাটকীয় ঘটনা প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভাবমূর্তিকে নতুন করে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক