ট্রাম্পের বাসভবনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে নিহত ১
ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৩০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণ নর্থ ক্যারোলাইনার ক্যামেরনের বাসিন্দা অস্টিন টি. মার্টিন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন। খবর বিবিসির।
পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ (আঞ্চলিক প্রধান) রিক ব্র্যাডশ সাংবাদিকদের জানান, ওই ব্যক্তি একটি পেট্রোল ক্যানিস্টার ও একটি শটগান নিয়ে মার-এ-লাগোর অভ্যন্তরীণ সীমানায় প্রবেশ করেছিলেন। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট ও শেরিফ অফিসের সদস্যরা তাকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি ক্যানিস্টারটি ফেলে দিয়ে শটগানটি গুলি করার ভঙ্গিতে উঁচিয়ে ধরলে এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা ছিল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হননি।
তদন্তকারী সংস্থা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, অস্টিন টি. মার্টিনের পরিবার গত শনিবারই তাকে নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মার-এ-লাগোর কোনো একজন অতিথি বেরিয়ে যাওয়ার সময় সেই সুযোগে তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে শটগানটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় সব জনবল নিয়োগ করেছেন। সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিসের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনি হামলাকারীকে ‘অস্ত্রধারী উন্মাদ’ হিসেবে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফেডারেল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৪ ঘণ্টা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’
১৯২৭ সালে নির্মিত মার-এ-লাগো বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘উইন্টার হোয়াইট হাউস’ হিসেবে পরিচিত। এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক