ইরানে হামলার ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষ জেনারেলের সতর্কবার্তা, প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন— এমন সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জেনারেল কেইন কখনও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেননি। বরং প্রয়োজন হলে যুদ্ধ ‘সহজেই জেতা সম্ভব’—এমন বিশ্বাসই কেইনের। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প আরও লেখেন, তিনি শুধু একটি জিনিস জানেন—কীভাবে জিততে হয়। যদি তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তিনি নেতৃত্ব দেবেন।
প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত সপ্তাহে এক বৈঠকে জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্টকে জানান, ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং এতে মার্কিন হতাহতের ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর পূর্ণ সমর্থন ও প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ কিছু অস্ত্রভান্ডার চাপে রয়েছে।
জেনারেল কেইনের কার্যালয় এ বিষয়ে জানায়, সামরিক প্রধান হিসেবে তিনি বেসামরিক নেতৃত্বকে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প, সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন—এটাই তার দায়িত্ব।
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে ইরান বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবি—যেমন শূন্য পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন প্রত্যাহার—মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নও উঠতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, প্রয়োজনে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না। তবে সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক