ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা : যে চার বিষয় জানা জরুরি
দীর্ঘদিনের শত্রুতা আর সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে? এই প্রশ্নটিই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই শান্তি আলোচনার বিস্তারিত তথ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকলেও, এর গুরুত্ব অপরিসীম। কেন এই আলোচনা এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সফলতার ওপর বিশ্ববাসীর ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ভর করছে, তা বুঝতে হলে চারটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি :
১. আলোচনায় কারা অংশ নিচ্ছেন?
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ আরও ৭১ প্রতিনিধি। দুই দেশের প্রতিনিধিদলেই বড় আকারের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২. পাকিস্তানের ভূমিকা কী?
পাকিস্তান এখানে ‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ বা ‘শাটল মিডিয়াটর’ হিসেবে কাজ করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। পাকিস্তানই দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছে এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান ঘটাচ্ছে। দেশটির জন্য এই আয়োজন বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ।
৩. আলোচনা কতদিন চলবে?
বিষয়টি এখনও কিছুটা অস্পষ্ট। তবে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, মূল আলোচনা শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি মূলত একদিনের একটি নিবিড় বৈঠক হতে পারে। তবে আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
৪. মূল মতবিরোধের বিষয়গুলো কী কী?
দীর্ঘ যুদ্ধের পর অবিশ্বাসের দেয়াল টপকানোই বড় চ্যালেঞ্জ। আলোচনার টেবিলে যে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে :
হরমুজ প্রণালি : এই কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরান ছাড়তে চায় না, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে।
লেবানন সংকট : ইরান চায় এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা হোক।
পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু : ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ন্ত্রণ ও এর বিনিময়ে তেহরান তাদের আটকে পড়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক