সহিংসতা ঠেকাতে মেক্সিকোতে সেনা মোতায়েন
শীর্ষ মাদক কার্টেল নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ নিহত হওয়ার পর মেক্সিকোতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দেশটির সরকার সারা দেশে প্রায় সাড়ে নয় হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিকার্দো ত্রেভিয়া জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিমাঞ্চলে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫০০ সেনা পাঠানো হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রায় নয় হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান এল মেনচোকে রোববার জালিস্কো অঙ্গরাজ্যে বিশেষ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। পরে সামরিক হেফাজতে নেওয়ার পরপরই তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা শুরু হয়।
নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, সহিংসতার ঘটনায় জালিস্কোতে ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া এক কারারক্ষী, এক প্রসিকিউটর দপ্তরের কর্মকর্তা এবং এল মেনচোর সংগঠনের অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ত্রেভিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘনিষ্ঠ নারীসঙ্গীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে অনুসরণ করে। গ্রেপ্তারের সময় তার দেহরক্ষীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাপালপা শহর থেকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে মারা যান এল মেনচো।
অভিযানে এল মেনচোর ছয় দেহরক্ষী নিহত ও তিন সেনাসদস্য আহত হন।
এল মেনচোর মৃত্যুর পর কার্টেল সদস্যরা বিভিন্ন শহরে সড়ক অবরোধ করে। কোথাও রাস্তার ওপর পেরেক ও স্পাইক ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আবার কোথাও বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বহু ব্যাংক ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
জালিস্কোর পুয়ের্তো ভালার্তা শহরে সামরিক হেলিকপ্টার টহলের সময় পর্যটকদের আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা গেছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়।
প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম সেনাবাহিনীর অভিযানকে সফল বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার। তিনি দাবি করেন, দেশে সরকার রয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে এবং সমন্বয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এল মেনচোর গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তথ্য সহায়তা দিলেও সরাসরি কোনো মার্কিন বাহিনী অংশ নেয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক