পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত : সামরিক শক্তিতে কারা এগিয়ে ?
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ রাতারাতি তীব্র আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। তবে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। পাকিস্তান যেখানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী, সেখানে আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী মূলত একটি গেরিলা যুদ্ধনির্ভর স্থলবাহিনী।
আরও পড়ুন : আফগানিস্তানে বিমান হামলায় নিহত ১৩৩, দাবি পাকিস্তানের
আরও পড়ুন : ‘উন্মুক্ত যুদ্ধের’ ঘোষণা পাকিস্তানের, মুহুর্মুহু বিমান হামলা কাবুলে
আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে দুই দেশের সামরিক শক্তির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সৈন্যসংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানের নিয়মিত সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, যার বিপরীতে আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার। তবে তালেবানদের একটি বড় অংশ গত দুই দশক ধরে যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। স্থলশক্তির সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের রয়েছে ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি আর্টিলারি বা কামান। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কাছে কিছু সাঁজোয়া যান ও কামান থাকলেও তার বেশিরভাগই সোভিয়েত আমলের পুরোনো সরঞ্জাম। এগুলোর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই।
আকাশপথে দুই দেশের শক্তির ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানের কাছে ৪৬৫টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (এফ-১৬, জেএফ-১৭) এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। বিপরীতে আফগানিস্তানের কোনো নিজস্ব ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান নেই। তাদের কাছে স্বল্পসংখ্যক পুরোনো বিমান ও হেলিকপ্টার থাকলেও বর্তমান যুদ্ধে সেগুলোর কার্যকারিতা অত্যন্ত সীমিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পারমাণবিক সক্ষমতা। পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, যাদের ভাণ্ডারে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আফগানিস্তানের এ ধরনের কোনো সক্ষমতা নেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক