আফগান ঘাঁটিতে পাকিস্তানের হামলা
আফগানিস্তানের কন্দহার অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান সরকারের ড্রোন হামলার অভিযোগে শনিবার (১৪ মার্চ) এই পাল্টা হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তালেবান সরকারের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে কাবুল ‘লাল রেখা অতিক্রম করেছে’। খবর আল জাজিরার।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, তালেবান বাহিনীর পাঠানো কয়েকটি ড্রোন দেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে উড়ানো হয়েছিল। তবে সেগুলো লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়।
ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোয়েটায় দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া কোহাট ও রাওয়ালপিন্ডি শহরেও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সাময়িকভাবে রাজধানী ইসলামাবাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তান দাবি করেছে, কন্দহারের যে স্থাপনাটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেখান থেকেই ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল এবং এটি সীমান্তপারের বিদ্রোহী কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছিল।
তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাবুল ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
এদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী একটি পাকিস্তানি সীমান্ত পোস্ট দখল করে ১৪ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। যদিও পাকিস্তান এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
এই সংঘাত এমন সময়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যখন পুরো অঞ্চল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার কারণে উত্তেজনায় রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দেশকে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক