যখন ‘অস্থি-মজ্জায়’ অনুভব করব তখনই যুদ্ধ শেষ হবে : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দিলেন না। গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যখন তিনি নিজের ‘অস্থি-মজ্জায় অনুভব’ করবেন, তখনই এই লড়াই শেষ হবে। খবর দি পলিটিকোর।
ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে এটি কবে শেষ হবে তা কেবল তিনিই জানবেন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সংঘাত তখনই শেষ হবে ‘যখন আমি এটি অনুভব করব, নিজের হাড়ের ভেতর অনুভব করব’। তবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে মিশ্র সংকেত পাওয়া যাচ্ছে; প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কখনো বলছেন এটি কয়েক দিন স্থায়ী হবে, আবার কখনও বলছেন কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তবে প্রয়োজনে এটি অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে বলেও তিনি যোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র গোলাবারুদ সংকটের মুখে রয়েছে—এমন খবর তিনি উড়িয়ে দেন।
ফক্স নিউজের ব্রায়ান কিলমিডকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যে প্রযুক্তি বা অস্ত্র আছে, তা আর কারো নেই। আমরা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। অনেক বেশি এগিয়ে।’ পরে তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘কার্যত সীমাহীন গোলাবারুদ’ রয়েছে। আমরা এটি ব্যবহার করছি, ব্যবহার করেই যাচ্ছি। আমরা চিরকাল এটি চালিয়ে যেতে পারি।”
যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধির ওপর নির্ভর করবে বলে ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সসহ জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারণ করবেন যে এই অভিযানের লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে। এই লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, ইরান যেন আর কখনো সামরিক হুমকি হয়ে না থাকে।
এর আগে শুক্রবার হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিজয় নিশ্চিত এবং পাশাপাশি যুদ্ধের প্রতিকূল সংবাদ প্রচারের জন্য তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনাও করেন।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও খাটো করে দেখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের সেরা এবং এটি খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগনের মতে, এই যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে এবং প্রথম সপ্তাহেই ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রেসিডেন্টের এমন বার্তা তেল শিল্পের জন্য এক ধরনের জনসংযোগ দুঃস্বপ্ন তৈরি করেছে। গত বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, তাই তেলের দাম যখন বাড়ে, আমরা অনেক টাকা আয় করি।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক