ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ, ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযান অথবা ‘খারাপ চুক্তি’ : ইরান
ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। আজ রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পকে হয় একটি ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযান বেছে নিতে হবে, অথবা ইরানের সঙ্গে একটি ‘খারাপ চুক্তিতে’ সই করতে হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, এই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান ও লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনার লক্ষ্যে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : হিজবুল্লাহর নতুন কৌশল : ‘ফাইবার অপটিক ড্রোনে’ দিশেহারা ইসরায়েল
তবে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প এই প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করব, কিন্তু আমার মনে হয় না এটি গ্রহণযোগ্য হবে। গত ৪৭ বছর ধরে তারা (ইরান) বিশ্ব ও মানবতার যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য এখনও যথেষ্ট মূল্য চুকায়নি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। তিনি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন রণতরী ও সেনাদের জন্য কবরস্থান প্রস্তুত করো।
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাতের পথ বেছে নেবে। তেহরান উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।
যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ জানিয়েছেন, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ে একটি আইন পাসের প্রক্রিয়া চলছে। এই আয়ের ৩০ শতাংশ সামরিক অবকাঠামো ও বাকি ৭০ শতাংশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মানুষ তাদের শেষ সম্বল সোনা ও জমানো ডলার খরচ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এই সঞ্চয় ফুরিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক