৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এর স্থায়ী অবসান চায় ইরান। এই লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা নূর নিউজ ও তাসনিম নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের এই প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার একটি পাল্টা উত্তর। মার্কিন পরিকল্পনায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও ইরান চায় কোনো সাময়িক বিরতি নয়। বরং এক মাসের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী পরিসমাপ্তি।
ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাবের মূল দাবিগুলো হলো- ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; হরমুজ প্রণালিসহ ইরানি সমুদ্রসীমায় মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান; অঞ্চলটি থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার; লেবাননে ইসরায়েলি হামলাসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করা; ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
আরও পড়ুন : হিজবুল্লাহর নতুন কৌশল : ‘ফাইবার অপটিক ড্রোনে’ দিশেহারা ইসরায়েল
আরও পড়ুন : ভারত মহাসাগরে দাপট বাড়াচ্ছে পাকিস্তান, চীন থেকে পেল সাবমেরিন ‘হাঙ্গর’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন এই ১৪ দফা প্রস্তাব নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন, তবে এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান গত ৪৭ বছর ধরে বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য তারা এখনও পর্যাপ্ত ‘মূল্য’ দেয়নি।
এদিকে আজ রোববার (৩ মে) কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। ওমান দীর্ঘকাল ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। দুই নেতা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন : তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে মে মাসের পূর্বাভাস
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা স্থায়ী শান্তি চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বদলে সংঘাতের পথ বেছে নিলে তেহরানও তার জবাব দিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার নিয়ে উভয় দেশই একে অপরকে চাপে রাখার কৌশল বজায় রেখেছে।
সূত্র : আলজাজিরা

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক