যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান জানিয়েছে, তারা দ্রুত একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করবে। তেহরান জোর দিয়ে জানিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির শাসনব্যবস্থা এই শক্তিশালী পদের শূন্যতা পূরণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খবর এএফপির।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সিদ্ধান্ত কে নেয়?
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাটি মূলত ধর্মতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের সংমিশ্রণ, যার শীর্ষে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা। 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ (যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত) আজীবনের জন্য এই নেতাকে নির্বাচন করে। তাত্ত্বিকভাবে এই শীর্ষ ধর্মীয় সংস্থাটির মাধ্যমে নেতাকে তত্ত্বাবধান করার কথা থাকলেও, বাস্তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল নীতিতে নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে মেনে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবেও কাজ করেন।
এই বিশেষজ্ঞ পরিষদ ৮৮ জন আইনবিদ নিয়ে গঠিত যারা প্রতি আট বছর অন্তর নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে যখন নির্বাচিত করা হয়, তখন থেকে এ পর্যন্ত এই পরিষদ মাত্র একবারই নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে।
দ্রুত নির্বাচন
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি দ্রুত নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র রোববার (১ মার্চ) বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব একজন নেতা নির্ধারণ করতে হবে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে এটি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘আপনারা সম্ভবত এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন দেখতে পাবেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের শাসন ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় এটি সক্ষম।
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব
খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল ঘোষণা করেছে। এতে রয়েছেন আইনবিদ আলিরেজা আরাফি (গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য), প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রোববার জানিয়েছেন, এই কাউন্সিল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং তারা ইমাম খোমেনির দেখানো পথেই অগ্রসর হবেন।
পূর্ববর্তী মনোনয়ন
১৯৮০-র দশকে আয়াতুল্লাহ হোসেন আলী মন্তাজেরি খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হতেন। কিন্তু খোমেনি তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগে সমর্থন পরিবর্তন করেন এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদ আলী খামেনিকে বেছে নেয়। খামেনি শুরুতে এই মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করলেও আলেমদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকে তাঁর ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ কখনো শিথিল হয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক