ইরানের সঙ্গে কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে ইসরায়েল?
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বর্তমান সামরিক সংঘাত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন—গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় টানা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল ইতোমধ্যে ক্লান্ত। এই অবস্থায় ইরানের মতো বড় শক্তির সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ইসরায়েলের জন্য চরম ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খবর আল জাজিরার।
শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েলে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে। ফলে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে ও কয়েক হাজার রিজার্ভ সৈন্যকে তলব করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ শির হেভারের মতে, ইসরায়েলে এখন ‘চরম সামরিকবাদ’ কাজ করছে। এমনকি যুদ্ধ সমালোচকরাও এখন প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ দিচ্ছেন যুদ্ধকে ‘সংক্ষিপ্ত’ রাখার জন্য।
শিক্ষাবিদ ড্যানিয়েল বার-তাল একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘ব্লিটজ’ হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা ইরানকে ‘মন্দের প্রতীক’ হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু থেকেই অভ্যস্ত হয়েছে, যা তাদের এই সংঘাত মেনে নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারা কতদিন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো ২ ও ৩) সচল রাখতে পারবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার জানান, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ২০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইসরায়েল এক সময় ইন্টারসেপ্টর রকেটের সংকটে পড়েছিল। মার্কিন সাহায্য ছাড়া ইসরায়েল সম্ভবত ইতোমধ্যে আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলত।
ইরান প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি করে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। যদি ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো ধ্বংস করতে না পারে, তবে ইরানের বিশাল মজুদের মুখে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা বহুমুখী যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। ২০২৪ সালে যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে পৌঁছেছে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। তিনটি প্রধান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ইসরায়েলের ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে ঋণ, জ্বালানি, পরিবহণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সংকটের সম্মুখীন।
শির হেভার মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকট যুদ্ধ থামাতে পারবে না যদি যুক্তরাষ্ট্র উন্নত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে। আমেরিকা এমন প্রযুক্তি দিচ্ছে যাতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে দূর থেকে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা যায়।
পরিশেষে, বর্তমান প্রজন্মের ইসরায়েলিরা অনেক বেশি উগ্র ও সামরিকপন্থি হয়ে উঠছে, যারা মনে করে টিকে থাকার জন্য শত্রুর বিরুদ্ধে তরবারির ওপর নির্ভর করাই একমাত্র পথ। তবে এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিতকে কতটা নড়বড়ে করবে, তা সময়ই বলে দেবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক