ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ ও সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের’ প্রস্তাবে ইরানের উপহাস
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তেহরানের আত্মসমর্পণের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি ও মন্তব্যকে সরাসরি ‘উপহাস’ করে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই অযৌক্তিক দাবির বিপরীতে তেহরান ‘চরম প্রত্যাখ্যানের’ ভঙ্গি প্রদর্শন করছে। খবর আল জাজিরার।
আসলানি বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব বর্তমানে কোনো পরিবর্তনের বদলে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সংকেত দিচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের এখতিয়ারভুক্ত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকার প্রশ্নই আসে না। মার্কিন প্রশাসনের এই ধরনের মন্তব্যকে তেহরানের প্রশাসনিক মহলে কেবল হাস্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে এই গবেষক আরও জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় ইরানের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে এক ধরনের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা বা তাদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন বার্তায় বলা হচ্ছে, বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির স্মরণে চলমান তিন দিনের শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য ইরানের কট্টরপন্থী ও সাধারণ জনগণের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারেই পরবর্তী নেতৃত্ব বেছে নেবে, যেখানে বাইরের কারো হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
এর আগে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে এখন কেবল একটিই পথ খোলা আছে, আর তা হলো ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’। এই আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি বা আলোচনা সম্ভব নয়।
রয়টার্স ও এক্সিওসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না ইরানের পরবর্তী নেতা আবার খামেনির (নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) মতোই কেউ হোক। এমন কাউকে নির্বাচিত করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক