কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ইরান?
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের নবম দিন আজ। দিন যত বাড়ছে, সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরমধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চললে ইরান টানা ছয় মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘তীব্র সংঘাত’ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। খবর আল জাজিরার।
ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে নাইনি আরও জানান, ইরান এখন পর্যন্ত কেবল তাদের ‘প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে আগামী দিনে তারা এমন কিছু উন্নত ও কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে, যা শত্রুপক্ষের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
সাধারণ মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রার ওপর সংঘাতের সরাসরি প্রভাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমবারের মতো তেহরানের প্রধান তেল শোধনাগার এবং স্টোরেজ ট্যাঙ্কে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে, যার ফলে রাজধানী জুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি মিষ্টি জল লবণাক্তকরণ কেন্দ্রে মার্কিন বোমা হামলায় ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি একে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই পানি সংকটের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বাহরাইনের একটি জল লবণাক্তকরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাহরাইন সরকার।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আগের হামলাগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বা অঞ্চল ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা না হয়, তবে তেহরানও সেসব দেশে আক্রমণ করবে না। তবে এই প্রতিশ্রুতির পরেও কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নতুন করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক