‘আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে যাচ্ছি’
কয়েক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করে আসা অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইরান সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ‘শাসনব্যবস্থার পতন’ ঘটাতে অর্থ ব্যয় করা সার্থক।
বিদেশের মাটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের সমর্থক গ্রাহাম রোববার (৮ মার্চ) ফক্স নিউজকে বলেন, ‘যখন এই শাসনের পতন হবে, আমরা একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য পাব এবং সেখান থেকে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে যাচ্ছি।’ খবর আলজাজিরার।
মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েল এবং ইরান যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র গ্রাহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং ইরানের ওপর হামলা মূলত দেশ দুটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য করা হয়েছে।
গ্রাহাম বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের কাছে বিশ্বের তেলের মজুতের ৩১ শতাংশ রয়েছে। আমরা এই জানা মজুতের ৩১ শতাংশের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে যাচ্ছি। এটি চীনের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন এবং আমাদের জন্য এটি ভালো বিনিয়োগ।’
যুক্তরাষ্ট্র ‘দেশ ভাগ করে তেল নিতে চায়’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সোমবার (৯ মার্চ) অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল সম্পদ দখলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার এবং উদ্যোগটি বেশ স্পষ্ট—তারা আমাদের তেল সম্পদ অবৈধভাবে দখল করতে ও আমাদের দেশ ভাগ করার লক্ষ্য নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা, আমাদের জনগণকে পরাজিত করা এবং আমাদের মানবতাকে ক্ষুণ্ন করা।’
অন্যদিকে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আগামী দুই সপ্তাহে আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র এই লোকদের ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে কেউ আর যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেবে না।’
ফক্স নিউজের সঞ্চালক মারিয়া বার্টিরোমোকে গ্রাহাম আরও বলেন, ‘এই শাসনব্যবস্থা এখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে, তারা হাঁটু গেড়ে বসবে, তাদের পতন হবে। আর যখন এর পতন হবে, তখন আমরা এমন শান্তি পাব যা আগে কখনো ছিল না এবং আমরা এমন সমৃদ্ধি দেখব যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’
যুদ্ধের নেপথ্যে লবিং
যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রাহাম ইসরায়েল সফর করেন এবং মোসাদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন এবং ট্রাম্পকে যুদ্ধের জন্য রাজি করাতে কীভাবে লবিং করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে এমন কিছু ‘গোয়েন্দা তথ্য’ দেখান যা তাকে ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু করতে প্ররোচিত করে। যদিও ইরান বারবার বলেছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদ্ধতিগত প্রমাণের কথা জানায়নি।
প্রায় সব যুদ্ধের সমর্থক গ্রাহাম
সবচেয়ে কট্টরপন্থী বা 'হকিশ' সিনেটর হিসেবে পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহাম গত দুই দশকের প্রায় সবকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সমর্থন করেছেন—যার মধ্যে ২০০৩ সালের বিধ্বংসী ইরাক যুদ্ধও রয়েছে। সেই যুদ্ধে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ইরাকি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল। তিনি সিরিয়া এবং লিবিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপেরও সমর্থক ছিলেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন গ্রাহাম সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি চাই তারাও লড়াইয়ে নামুক। আমরা তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি। ইরান তাদের দেশে হামলা করছে; তাদের ভালো সক্ষমতা আছে।’
গ্রাহামের এই সাক্ষাৎকার থেকে আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, হোয়াইট হাউস এরপর কিউবার দিকে নজর দিতে পারে। গ্রাহাম বলেন, “এই টুপিটা দেখছেন? ‘ফ্রি কিউবা’। সাথে থাকুন। কিউবার মুক্তি আসন্ন। আমরা সারা বিশ্বে অভিযান চালাচ্ছি। আমরা খারাপ লোকদের পরিষ্কার করছি। এরপর কিউবার পালা।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক