ইসরায়েলের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও ব্যারাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। খবর আলজাজিরার।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আজ ভোরে তারা ইসরায়েলের সাফেদ শহরের পূর্বে অবস্থিত ‘গিভা’ ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন ‘ইফতাহ’ ব্যারাকে রকেট বর্ষণ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার সকালে হাইফার পূর্বে অবস্থিত ‘সিপোরিত’ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ও সন্ধ্যায় তেল আবিবের কাছে ‘তেল হাশোমার’ সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে সংগঠনটি।
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহরের উপকণ্ঠে তারা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা বা অ্যাম্বুশ পরিচালনা করেছে। এই সংঘর্ষে তিনটি ইসরায়েলি ‘মারকাভা’ ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া মারকাবা ও আইতারুন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর কামানের গোলা ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। মারুন আল-রাস সীমান্তেও ইসরায়েলি সেনাদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালিয়েছে।
দিকে, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী দাহিয়াহ ও দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন রকেট লঞ্চার এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ)।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে লেবাননে এ পর্যন্ত ৪৮৬ জন নিহত ও ১ হাজার ৩১৩ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় লেবানন জুড়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক