ইসরায়েল থেকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল স্পেন
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্পেনের সরকারি গেজেটে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন এক চরম অবনতির দিকে ধাবিত হলো। খবর রয়টার্সের।
মূলত গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে। সে সময় স্পেন একটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জানায়, ইসরায়েলি কোনো জাহাজ বা বিমান যদি অস্ত্র বহন করে, তবে তারা স্পেনের বন্দর বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। স্পেনের এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা'র ‘ইহুদি বিরোধী’ বলে নিন্দা করেছিলেন, যার প্রতিবাদে মাদ্রিদ তখনই তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত তলব করেছিল। এবার সেই পদটিকেই স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল আবিবে তাদের দূতাবাস এখনই বন্ধ হচ্ছে না, তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি একজন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্পেনের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে গত মে মাস থেকে স্পেনে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাসও একজন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স দিয়ে চালানো হচ্ছে।
চলতি মার্চের শুরুতে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা'র অভিযোগ করেন, যুদ্ধের বিরোধিতা করে স্পেন মূলত ‘অত্যাচারীদের পাশে’ দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে স্পেন এই আক্রমণকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্রমাগত অবনতি ঘটছে, যা এখন রাষ্ট্রদূতের স্থায়ী প্রত্যাহারের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক