ইতালি কেন ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন করেনি?
দীর্ঘ কয়েক দশকের সামরিক সহযোগিতা ছিন্ন করে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে’ তার সরকার প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হতে যাওয়া এই চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
গত সপ্তাহে লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িবহরে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালালে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতালি রোমে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
অন্যদিকে, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করায় ক্ষুব্ধ হয় ইসরায়েল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইসরায়েলও ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর কড়া প্রতিবাদ জানায়।
ইতালির এই সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চাপের ফল। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত করেছে। ইতালির বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে একই দাবি জানিয়ে আসছিল। এছাড়া গাজা ইস্যু ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির দাবিতে ইতালির রাজপথে লাখো মানুষের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট মেলোনি সরকারকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানিতে ইতালি বর্তমানে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। যদিও ২০২১-২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইসরায়েলের মোট অস্ত্র আমদানির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ আসে ইতালি থেকে (শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি)। তবে পরিমাণ কম হলেও ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা।
২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় ও যৌথ গবেষণার সুযোগ ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা এবং লেবানন ও গাজায় বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে ইতালির তীব্র অসন্তোষই এই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইতি টেনেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক