উদযাপনের বৈচিত্র্যে যেভাবে পালিত হয় দুবাই প্রবাসীদের ঈদ
প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির জন্য পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে জনবহুল শহর দুবাই। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা এই শহরে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি দুবাইয়ের বৈচিত্র্যময় পরিবেশকে আপন করে নিয়েছেন। যার প্রতিফলন ঘটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উদযাপনেও। দুবাইয়ে বসবাসরত চারজন প্রবাসীর ঈদ কাটানোর বিশেষ অভিজ্ঞতা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে গালফ নিউজ।
আজিজা আলখালফি : ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
মরক্কো বংশোদ্ভূত ৬৪ বছর বয়সী আজিজা আলখালফি ২০২৩ সাল থেকে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। তার কাছে ঈদের আনন্দ মানেই ঘর পরিষ্কার করা, নতুন পোশাক কেনা ও শিশুদের উপহার দেওয়া। আজিজার প্রিয় মুহূর্ত হলো তার নাতি ইউসুফের হাতে ‘ঈদি’ বা সালামি তুলে দেওয়া। বিশেষ করে তার রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ‘কাব আল গজল’ ও ‘ফেক্কাস’ এবং মিশরের ‘কাহক’ ও ‘গোরায়েবা’ মিষ্টির সুবাস ঈদের দিনটিকে বিশেষ করে তোলে। অন্তত চার প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রন্ধনশৈলী আজিজা এখন পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
অ্যাবি কাদোম : সহমর্মিতার হাত
ইরাকি-কানাডিয়ান ৪৪ বছর বয়সী অ্যাবি কাদোম ২০০৪ সাল থেকে দুবাইয়ে আছেন। তার কাছে ঈদ মানে কেবল নিজের পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করা নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি ‘হোপ আমেল ইউএই’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ পরিচালনা করেন। যার মাধ্যমে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে ঈদের পোশাক, খেলনা ও প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের ভাউচার দেওয়া হয়। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াই তার ঈদের আসল সার্থকতা।
বাসিম কালীল : শেকড়ের টানে
শ্রীলঙ্কান যুবক বাসিম কালীল গত চার বছর ধরে দুবাইয়ে কর্মরত। তিনি ঈদের দিনটি খুব সাধারণভাবেই পালন করতে পছন্দ করেন। পরিবারের সঙ্গে মসজিদে যাওয়া ও দুপুরে শ্রীলঙ্কান ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা তাদের প্রধান রীতি। বাসিমের কাছে দুবাইয়ের ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিভিন্ন দেশের পোশাক ও উৎসবের বৈচিত্র্য দেখা। আগে তিনি বড়দের কাছ থেকে ঈদি গ্রহণ করতেন। তবে এখন তিনি নিজেই তার ছোট ভাইবোন ও কাজিনদের ঈদি দিয়ে বড় হওয়ার নতুন দায়িত্ব উপভোগ করছেন।
খাদিজা শেখ : কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত
মুম্বাই থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী খাদিজা শেখ গত পাঁচ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। তার শৈশবের ঈদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে মুম্বাইয়ের মোহাম্মদ আলী রোডের কেনাকাটায়। তবে দুবাইয়ে তিনি এখন মিনা বাজার ও কারামায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। ঈদের দিন সকালে বাবার নিজ হাতে বানানো ‘ক্ষীর’ বা চালের পুডিং দিয়ে নাস্তা করা তাদের পরিবারের দীর্ঘ তিন প্রজন্মের ঐতিহ্য। খাদিজার মতে, দুবাই তাকে শিখিয়েছে যে ঈদ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি পরিবার ও কৃতজ্ঞতার এক গভীর অভিজ্ঞতা।
দুবাইয়ের এই বৈচিত্র্যময় উদযাপন প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও মানুষ তার শেকড় ও সংস্কৃতির মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক