লারিজানি হত্যার ‘চূড়ান্ত’ প্রতিশোধের হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হত্যার ঘটনায় ‘চূড়ান্ত’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র এবং রক্তপিপাসু জায়নবাদী (ইসরায়েল) শাসনকে উপযুক্ত সময়ে একটি চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে। খবর বিবিসির।
সেনাপ্রধান হাতামি আরও বলেন, লারিজানি ও অন্য ‘শহীদদের’ মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবেই। ইতোমধ্যে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের পর দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ও সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যু ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিত্ররা তাকে জানিয়েছে- তারা ইরান যুদ্ধে ‘জড়িত হতে চায় না’। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় সাহায্যের জন্য ট্রাম্পের অনুরোধ একের পর এক দেশ প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের জেরে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তা পদত্যাগ করে বলেছেন, ‘ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।’
ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিমান হামলা আর কঠোর দমনপীড়নের মুখে তারা দিশেহারা। নিজের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে এক ইরানি নারী বলেন, এখন ঘর থেকে বের হওয়া মানে নিজের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক