মধ্যপ্রাচ্যে আরও মেরিন সেনা ও রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত মেরিন সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনার একটি দল এবং উভচর হামলাকারী জাহাজ ‘ইউএসএস বক্সার’ (USS Boxer) এই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বিশ্ববাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্রেট অব হরমুজ’ (হরমুজ প্রণালি) উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে আটকে পড়া ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসতে পারে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল তেহরান ও মধ্য ইরানে বড় ধরনের দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও তেল আবিব ও জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জেরুজালেমের ওল্ড সিটির কাছে আছড়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত ইরান ও লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ট্রাম্প একটি বড় ধরনের স্থল যুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, যদিও মাত্র সাত শতাংশ নাগরিক এমন পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো মিত্র দেশগুলো সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারজ এই বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক