ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ‘১৫ দফা’ শান্তি পরিকল্পনা এবং এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন, তবে তেল আবিব আশঙ্কা করছে—দ্রুত চুক্তি করতে গিয়ে ওয়াশিংটন হয়তো তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের আপস করতে পারে। খবর এএফপির।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের মূল দুশ্চিন্তা হলো ইরানের কাছে থাকা ৪৫০ কেজি ওজনের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—এই বিশাল পরিমাণ পারমাণবিক জ্বালানি কি সত্যিই ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি তারা ভবিষ্যতে আবারও সমৃদ্ধকরণ শুরু করার সুযোগ পাবে?
এ ছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়েও ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তির পর ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো গ্যারান্টি ট্রাম্পের পরিকল্পনায় আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে নেতানিয়াহু প্রশাসনের। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে তাদের আরও সময়ের প্রয়োজন, যাতে তারা ইরানের ভেতরে থাকা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরও শক্তিশালী আঘাত হেনে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা চিরতরে পঙ্গু করে দিতে পারে।
এরই মধ্যে পাকিস্তান এই আলোচনা মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুক্তির শর্তগুলো ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য শতভাগ অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক