ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছিলেন ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তার পরপরই ইসরায়েল অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের পক্ষ থেকে ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। খবর আল জাজিরার।
আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগত হুমকি মোকাবিলায় আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত দেশটির উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা তুলে নিয়েছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প যখন ঘোষণা দিচ্ছিলেন তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন, ঠিক তখনই এই নতুন দফার হামলা শুরু হয়। একে ট্রাম্পের দাবির পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে তেহরান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত বিজয়’ দাবির কয়েক মিনিটের মাথায় এই হামলা প্রমাণ করে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এখনও পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি।
এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, গত চার সপ্তাহে আমাদের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমি সবসময়ই কূটনীতির পথে সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু ইরান সরকার ক্রমাগত পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে। প্রতিটি চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কিছু গোপন অস্ত্র ছিল যা কারো ধারণায় ছিল না। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনী সেগুলো চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল খুবই স্পষ্ট— ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতাকে পদ্ধতিগতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি, বিমান বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এমন স্তরে আঘাত করেছি যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের মেরুদণ্ড আমরা ভেঙে দিয়েছি। এখন তাদের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনীও নিঃশেষ। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় শেষ অথবা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে পরাস্ত হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক