ইরানের দ্বীপ দখল হলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানের কোনো দ্বীপ বা ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর বার্তা দেন।
বাঘের গালিবফ জানান, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখছে ও যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের ওপর ‘অবিরাম ও নিরলস’ হামলা চালানো হবে। খবর আল জাজিরার।
গালিবফের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে আলোচনার দাবি করছেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস থেকে ইরানকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানকে অবশ্যই তাদের পরাজয় স্বীকার করে নিতে হবে। তারা যদি বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে ভুল করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর এমন ভয়াবহ আঘাত করবেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনে (ইরানের ওপর) ‘নরক’ নামিয়ে আনতে প্রস্তুত।’
পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণপ্রস্তুতি
পেন্টাগন ইতোমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সৈন্য ও বিশাল উভচর অ্যাসল্ট জাহাজে করে দুটি মেরিন ইউনিট আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছাবে।
নজর ‘খারগ’ দ্বীপের ওপর
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত। অভিযোগ উঠেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যদি খারগ দ্বীপে মার্কিন সেনারা অবতরণ করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও সহযোগী দেশগুলোর জন্য ‘অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক’ হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি দ্বীপপুঞ্জে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা লোহিত সাগরের মোহনায় অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নতুন রণাঙ্গন খুলতে পারে। এমনকি ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও প্রয়োজনে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধের দামামার মধ্যেও পর্দার আড়ালে আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ১৫-দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে, বিপরীতে তেহরানও তাদের নিজস্ব ৫টি শর্ত দিয়েছে। তবে প্রকাশ্যে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা অস্বীকার করে আসছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক