হরমুজ প্রণালি ফের চালুর বিষয়ে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাজ্য
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য কয়েক ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় জলপথটি বন্ধ হয়ে গেছে। খবর আল-জাজিরার।
বুধবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর’ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার আগামী বৃহস্পতিবার ৩৫টি দেশের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য আমরা যেসব সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারি, ওই বৈঠকে তা মূল্যায়ন করা হবে।
স্টারমার আরও বলেন, ওই বৈঠকের পর আমরা আমাদের সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও ডাকব, যাতে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর আমরা আমাদের সক্ষমতাকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি এবং প্রণালিটিকে সহজগম্য ও নিরাপদ করে তুলতে পারি, তা খতিয়ে দেখা যায়।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালিকে ইরান বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং সংকট নিরসনের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন দেশ তাদের কৌশলগত তেল ও গ্যাসের মজুতের কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার স্টারমার জানান, যেসব দেশ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত বলে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে, তারা আসন্ন ওই বৈঠকে অংশ নেবে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিল।
স্টারমার বলেন, এই বিষয়ে আমাকে সবার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতেই হবে। এই (হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর) কাজটি সহজ হবে না।
যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর নিন্দা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এসব দেশের বিরুদ্ধে প্রণালিটি পুনরায় চালু করার পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং ওয়াশিংটনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লেখেন, যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির (বন্ধের) কারণে জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) পায় না, তাদের হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা উচিত। অথবা দেরিতে হলেও কিছুটা সাহস সঞ্চয় করো, প্রণালিতে যাও এবং শুধু দখল করে নাও।
দেশগুলোর উদ্দেশে ট্রাম্প আরও লেখেন, তোমাদের নিজের জন্য লড়তে শিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র তোমাদের সাহায্য করতে আর থাকবে না, ঠিক যেমন তোমরাও আমাদের জন্য ছিলে না। ইরানকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। কঠিন কাজটা হয়ে গেছে। যাও, নিজেদের তেল নিজেরা জোগাড় করো!

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক