ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কোথায় এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়েছেন- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে তিনি এখনও কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনার নাম উল্লেখ করেননি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা যুদ্ধ আইনে নিষিদ্ধ।
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
ইরানে শত শত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ। প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য এসব কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। বিশেষ করে তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহান অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘনত্ব বেশি।
ইরানে গ্যাস, তেল, জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক- বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও অধিকাংশই গ্যাসচালিত। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
পারস্য উপসাগর উপকূলেও অনেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতার কারণে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সহজ। সেখানেই অবস্থিত দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এছাড়া কারুন নদী ঘিরে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ রয়েছে, যা দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস।
গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো
ইরানের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দামাভান্দ (পাকদাশ্ত) বিদ্যুৎকেন্দ্র- তেহরানের কাছে (২৮৬৮ মেগাওয়াট)
শহীদ সালিমি বিদ্যুৎকেন্দ্র- নেকা (২২১৫ মেগাওয়াট)
শহীদ রাজায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র- কাজভিন (২০৪৩ মেগাওয়াট)
কারুন-৩ বাঁধ- খুজেস্তান (২০০০ মেগাওয়াট)
কেরমান বিদ্যুৎকেন্দ্র- কেরমান (১৯১২ মেগাওয়াট)
এছাড়া আরও কিছু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো:
রামিন বিদ্যুৎকেন্দ্র- আহভাজ
বন্দর আব্বাস বিদ্যুৎকেন্দ্র- হরমুজ প্রণালির কাছে
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র- পারমাণবিক (১০০০ মেগাওয়াট)
ইরান কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?
ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। ২০২৫ সালে দেশটির মোট বিদ্যুতের প্রায় ৮৬ শতাংশ গ্যাস থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ: প্রায় ৭ শতাংশ
জলবিদ্যুৎ: প্রায় ৫ শতাংশ
পারমাণবিক শক্তি: প্রায় ২ শতাংশ
নবায়নযোগ্য (সৌর ও বায়ু): ১ শতাংশেরও কম
সবমিলিয়ে, ইরানের বিদ্যুতের ৯০ শতাংশের বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিণত করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক