লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
লেবাননে ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচলের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আবারও নস্যাৎ হয়ে গেল। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা চালানোর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল।
ইসরায়েল বুধবার লেবাননে ১০ মিনিটে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে লেবাননে অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হন। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয় লেবানন।
অন্যদিকে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। এটি বর্তমানে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র পথ। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন ঘটেছে। এ ছাড়া অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো দিনভর ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, লেবাননে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবে।
সূত্রটি আরও জানায়, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলাকে ইরান ‘চুক্তির অব্যাহত লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলেও জানায় সূত্রটি।
সূত্রের তথ্যমতে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আওতায় লেবাননের সশস্ত্র ইসলামী সংগঠন বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও গত ২ মার্চ লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
লেবাননের কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৫৩০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক