ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতা করল
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনা আর যুদ্ধের দামামার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হয়েছে পাকিস্তান। এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল মধ্যস্থতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসির।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদ দুই দেশের মধ্যে বার্তার বাহক হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত দুই দেশ দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আর এই যুদ্ধবিরতির সরাসরি ফলশ্রুতি হিসেবেই এখন ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক ‘শান্তি আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মধ্যস্থতার শুরুটা সহজ ছিল না। জানা গেছে, পাকিস্তান প্রথমে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছিল, কিন্তু তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এতে দমে না গিয়ে পাকিস্তান নতুন কৌশল গ্রহণ করে।
প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বেইজিং সফর করেন। সেখানে তিনি সংঘাত অবসানে একটি নতুন ৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং চীনের পূর্ণ সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। এই শক্তিশালী কূটনৈতিক চাপের মুখে দুই পক্ষই নমনীয় হতে শুরু করে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য শুধু যুদ্ধ থামানো নয়, বরং সব বিরোধ চিরতরে মিটিয়ে ফেলার জন্য একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তিতে’ পৌঁছানো।
আপাতত পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক