যে স্থানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শান্তি আলোচনা
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি শহরকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পরবর্তী ২০ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে, তেহরান পাঁচ বছরের একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন, এই কৌশলগত জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট একটি জটিলতা নিরসনেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আমেরিকানদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় ৪৫০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুঁতে রাখা হয়েছে।
ইরানিদের মতে, এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করে সেটিকে তিন শতাংশেরও কম পরিমাণে লঘু করা সম্ভব, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার উদ্বেগকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।
এ সব বিষয়ে বর্তমানে আলোচনার জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান—ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক