হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক সরাতে জাতিসংঘের অভিযান শুরু
আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানান, ইরান, ওমান, উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে শত শত জাহাজ এবং হাজারো নাবিক জলপথে আটকে পড়েন।
তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২২ জুন) অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনঃস্থাপন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাচ্ছে। ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালিতে বাণিজ্য পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলতে কত সময় লাগবে তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং এরই মধ্যে উভয় প্রান্তে শত শত জাহাজ আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে টোল বা ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।
রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। এখানে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি, এই অঞ্চলের সব দেশই এ বিষয়ে একমত হবে।
তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক