তুরস্কে স্কুলব্যাগে বন্দুক এনে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রের গুলি, নিহত ৪
তুরস্কের স্কুলে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলে এক ছাত্রের এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে চারজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে।
মাত্র একদিন আগেই দেশটির অন্য একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় ১৬ জন আহত হয় এবং হামলাকারী আত্মহত্যা করে। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কাহরামানমারাশ প্রদেশের গভর্নর মুকেররেম উনলুয়ের জানিয়েছেন, সর্বশেষ এই হামলায় একজন শিক্ষক এবং তিনজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। উনলুয়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন ছাত্র তার স্কুলব্যাগে করে বন্দুক নিয়ে এসেছিল, আমাদের বিশ্বাস সেটি ছিল তার বাবার মালিকানাধীন। সে দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।’
বেসরকারি বার্তা সংস্থা আইএইচএ’র প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, শরীর ও মুখ ঢাকা এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সংবাদে কান্নারত অভিভাবকদের দেখা যায়। খবর শুনে ওই অভিভাবকরা দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটির প্রধান শহরের ওই স্কুলে ছুটে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে তুরস্কের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্কুলে প্রচণ্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। পুলিশ স্কুল ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং টেলিভিশন ফুটেজে ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেখা গেছে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, প্রসিকিউটররা এই গুলিবর্ষণের ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শানলিউরফা প্রদেশের সিভরেক জেলায় এক প্রাক্তন ছাত্র তার পুরোনো হাই স্কুলে শটগান দিয়ে গুলি চালায়। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষকসহ মোট ১৬ জন আহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সময় ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে।
তুরস্কে স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা বেশ বিরল। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে রাজধানী ইস্তাম্বুলের একটি বেসরকারি হাই স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পাঁচ মাস পর এক প্রাক্তন ছাত্র সেখানকার অধ্যক্ষকে গুলি করে হত্যা করেছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক