দুই দেশই চুক্তিতে আগ্রহী, কিন্তু শেষটা কেমন হতে পারে!
দীর্ঘ উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পৌঁছাবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা নিরসনে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর সিএনএনের।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, তার প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ইসলামাবাদ পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদ শহরের অভিজাত হোটেলগুলো সাধারণ অতিথিদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো শহর এখন এক বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে আবৃত।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালিতে ইরানি গানবোট থেকে একটি ট্যাঙ্কারে গুলি চালানোর ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইরানের দাবি ছিল, তারা জলপথ উন্মুক্ত করলেও ট্রাম্প তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ সরাননি। তবে এই নাটকীয় উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশই আলোচনার টেবিলে ফিরছে। কারণ উভয় পক্ষই একটি চূড়ান্ত ‘ডিল’ বা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
শান্তি আলোচনার চ্যালেঞ্জ
মার্কিন প্রতিনিধি দলে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। তবে আলোচনায় বসার আগেই তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের মুখে এই বৈঠকটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক