‘ব্রিটিশরা না থাকলে মার্কিনিরা ফরাসি ভাষায় কথা বলতো’, ট্রাম্পকে রাজা চার্লসের খোঁচা
যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ রসিকতার ছলে খোঁচা দিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরনো বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে রাজা বলেন, ব্রিটিশরা না থাকলে মার্কিনিরা ইংরেজি নয়, বরং ফরাসি ভাষায় কথা বলতো।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নৈশভোজের টোস্ট দেওয়ার সময় রাজা চার্লস গত জানুয়ারিতে দাভোস সম্মেলনে ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যের সূত্র টানেন। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা না করলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতো। এর পাল্টা জবাবে রাজা চার্লস মৃদু হেসে বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি সম্প্রতি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া ইউরোপীয়রা আজ জার্মান বলতো। আমি কি বলতে পারি, আমরা (ব্রিটিশরা) না থাকলে আপনারা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন!’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আগে উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তির লড়াইয়ের ইতিহাসকে ইঙ্গিত করেই এই রসিকতা করেন তিনি।
আরও পড়ুন : রাশিয়া কি সত্যিই ইরানকে বাঁচাতে চায়?
প্রাক্তন রিয়েল এস্টেট টাইকুন ট্রাম্পের শখের ওপর ভিত্তি করেও ঠাট্টা করতে ছাড়েননি রাজা।হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বলরুম তৈরি করেছেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে রাজা বলেন, আমি দুঃখিত যে ১৮১৪ সালে আমরা ব্রিটিশরাও হোয়াইট হাউসে একবার ‘রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্টের’ চেষ্টা করেছিলাম।
আরও পড়ুন : ট্রাম্পের বুকে কাঁপন ধরানো ভাষণ দিলেন রাজা চার্লস
উল্লেখ্য, ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ সৈন্যরা হোয়াইট হাউসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া ১৭৭৩ সালের ঐতিহাসিক ‘বোস্টন টি পার্টির’ চেয়ে এই নৈশভোজ অনেক গুণ উন্নত ও সুখকর বলেও রসিকতা করেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও বিশেষ উপহার
রাজা চার্লসের এই হিউমার বেশ উপভোগ করেছেন ট্রাম্প। তিনিও পাল্টা রসিকতা করে বলেন, ‘কংগ্রেসে আজ রাজা চার্লস অসাধারণ বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে বাধ্য করেছেন, যা আমি কখনোই পারিনি।’
আরও পড়ুন : স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, কমেছে গ্রাহক
নৈশভোজে রাজা চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি বিশেষ উপহার দেন। সেটি ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নামানো ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস ট্রাম্পের’ একটি ঘণ্টা। উপহারটি হস্তান্তরের সময় রাজা বলেন, এটি আমাদের দেশ দুটির যৌথ ইতিহাস ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সাক্ষী হয়ে থাকবে। আর আমাদের সঙ্গে যদি কখনো যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে, তবে কেবল এই ঘণ্টাটি বাজাবেন।
আরও পড়ুন : এবার মার্কিন ভিসা আবেদনে নতুন দুই প্রশ্ন, গড়বড় হলেই বাতিল
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে চলা সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝে রাজার এই ‘চার্ম অফেনসিভ’ বা কূটনৈতিক সৌজন্য সফর দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক