ইরানি সামরিক বাহিনীর ‘ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে’, ফের যুদ্ধের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের অবাস্তব ও অযৌক্তিক দাবিগুলোর কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরবর্তী দফা আলোচনার আগেই দুই দেশের মধ্যে আবারও পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
ফোয়াদ ইজাদি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি পেয়েছি যে তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। আমার মনে হয়, পরবর্তী দফা আলোচনার আগেই আপনারা যুদ্ধ দেখতে পারেন’।
ইজাদির মতে, ইরান ২০১৫ সালের চুক্তির মতো আবারও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছাড় দিতে আগ্রহী ছিল। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এমন কিছু দাবি করছে যা ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার—যা দেশটির আত্মরক্ষার জন্য অপরিহার্য—সেটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থান আলোচনাকে ভেস্তে দিচ্ছে।
পেন্টাগন থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে ইজাদি এই হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় এই পরিমাণটি অনেক কম করে দেখানো হয়েছে।
৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্রুত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ সংঘাতের কবলে পড়তে যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক