ইরান কি তেল উৎপাদন বন্ধে বাধ্য হবে?
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধ দেশটিকে তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারবে কি না, এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ওয়াশিংটন দাবি করছে, এই অবরোধের ফলে ইরান তেল রপ্তানি করতে না পেরে মজুত করতে বাধ্য হচ্ছে। মজুত সক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে তারা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তবে ইরান এই চাপকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। খবর আলজাজিরা।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের তেলের মজুত দ্রুত বাড়ছে। সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির মতে, ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ডের ট্যাঙ্কগুলো প্রায় ৭৪ শতাংশ পূর্ণ ছিল। যেখানে অতিরিক্ত ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার খাতিরে তেল কোম্পানিগুলো সাধারণত ৮০ শতাংশের বেশি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে চায় না। তবে ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময় ইরান তাদের মজুত সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করার নজির দেখিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ইরানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। উৎপাদন বন্ধ করলে ভূগর্ভস্থ তেলের আধার বা রিজার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তেলের স্বাভাবিক প্রবাহের ধরন বদলে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে পুনরায় তেল উত্তোলন করা অনেক বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অবরোধের প্রভাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান অন্তত আরও ৩০ দিন এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি বিশ্লেষক মুয়ু সু মনে করেন, ইরানের হাতে বর্তমানে যে পরিমাণ স্থলজ মজুত সক্ষমতা রয়েছে, তাতে আরও প্রায় ২০ দিনের উৎপাদন সামলানো সম্ভব। এই অবরোধের ফলে উৎপাদন কমলেও তা হবে অত্যন্ত ধীরগতির।
শেষ পর্যন্ত মার্কিন এই অবরোধ ইরানকে তেল উৎপাদন বন্ধে কতটা বাধ্য করতে পারবে, তা নির্ভর করছে ইরানের মজুত ব্যবস্থাপনার কৌশল ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। সূত্র : আলজাজিরা

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক