‘পরিকল্পিত হামলার’ হুঁশিয়ারি রাশিয়ার, বিদেশিদের কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ‘পরিকল্পিত ধারাবাহিক হামলা’ চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে শহরটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত কিয়েভ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মস্কোর দাবি, ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এবং রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে সফল হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়া এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্টারোবিলস্কে হামলা ছিল ‘শেষ সীমা অতিক্রমের ঘটনা’। এর জবাবে ইউক্রেনের ড্রোন উৎপাদন, প্রোগ্রামিং ও প্রস্তুতকরণ কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব স্থাপনা কিয়েভজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই বিদেশি নাগরিক, কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের যত দ্রুত সম্ভব শহর ছাড়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এছাড়া কিয়েভের বাসিন্দাদের সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রাশিয়া।
পরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোন করে এই পরিকল্পনার কথা জানান এবং কিয়েভে থাকা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান বলে দাবি করেছে মস্কো।
লাভরভের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণ জনগণ ও বেসামরিক স্থাপনায় কিয়েভ সরকারের অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কোনো ছাত্রাবাসে হামলা চালায়নি; বরং একটি অভিজাত রুশ ড্রোন কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মস্কোর হুমকিকে ‘রুশ ব্ল্যাকমেইল’ বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মিত্রদের এতে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার ৭০ জনের বেশি বিদেশি কূটনীতিক কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে হামলার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ইউক্রেনে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত গেল ভেসিয়ের বলেন, মানুষ আবার কাজে ফিরছে, স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। এই দৃঢ়তাকে সমর্থন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রাশিয়ার হুমকি যে শুধুই কথার কথা নয়, সেটির ইঙ্গিত ইতোমধ্যে মিলেছে। স্টারোবিলস্ক হামলার পর থেকেই কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
রাশিয়া নিশ্চিত করেছে যে তারা এবার ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো ব্যবহার করা হলো।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার তেল শিল্প ও সামরিক উৎপাদন স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা ‘সম্পূর্ণ ন্যায্য’। তার ভাষ্য, কিয়েভে আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার পর এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক