চাপের মুখে সেনাপ্রধানকেও বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন। জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের জেরে কয়েক দিনের বিক্ষোভের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি, যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে একজন জনপ্রিয় কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। খবর বিবিসির।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দ্রাপাতি বলেন, দেশকে রক্ষা করছেন যারা, তাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। একই সঙ্গে তিনি সিরস্কির অবদানের প্রশংসা করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সিরস্কির সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতে কিয়েভ রক্ষায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি আরও জানান, তিনি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাকে সরকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ফেদোরভ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন কি না, তা জানাননি।
গত সপ্তাহে ফেদোরভের স্থলাভিষিক্ত হন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সাবেক কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খমারা।
ফেদোরভ নতুন সেনাপ্রধান দ্রাপাতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার নিয়োগ পরিবর্তনের সেই কণ্ঠস্বর, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এটি একটি নতুন আশা।
ফেদোরভ জানান, দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি সিরস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কিয়েভ অঞ্চলসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধে তার নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি যোগ করেন, এখন আরও দ্রুত এগোতে হবে এবং অতীতের ভুলগুলো শুধরে নতুন অধ্যায় লিখতে হবে।
ফেদোরভকে অপসারণের পর টানা ছয় দিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলে। আন্দোলনকারীরা সিরস্কিকেও অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়েভহেনি খমারা। জেলেনস্কি তাকে এবং নতুন সেনাপ্রধান দ্রাপাতিকে সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন, অস্ত্র সরবরাহ, ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে বরখাস্ত হওয়ার পরও সিরস্কি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সোমবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি ফেদোরভের সঙ্গে সম্পর্ককে পেশাগত সম্পর্ক বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, বিশেষ করে মিখাইলো ফেদোরভকে, তাহলে আমি দুঃখিত।
তিনি আরও বলেন, সামরিক চুক্তি, অস্ত্র ক্রয় এবং সেনা সমাবেশের মতো বিষয়গুলো স্লোগানের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। সিরস্কি বলেন, মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত স্লোগান দিয়ে নেওয়া যায় না। প্রকৃত কাজই যুদ্ধ জেতায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগে তাৎক্ষণিক সংকট কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে ফেদোরভকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে জেলেনস্কির সামনে এখনও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক