দুই পাইলটের মারামারি, ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিব গামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটের ভেতরেই দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাত্র দুই মিনিটে উড়োজাহাজটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। পরে গতিপথ পরিবর্তন করে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে (প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দর) জরুরি অবতরণ করানো হয়। খবর বিবিসি ও জেরুজালেম পোস্টের।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, উড়োজাহাজটি ছিনতাই বা আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েছিল।
সংবাদসংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৫০ জন আরোহী (যার মধ্যে ১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি) নিয়ে তেলআবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ ফ্লাইটটি।
ফ্লাইট-পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করছিল, ঠিক তখনই হুট করে মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট (পাঁচ হাজার ২০০ মিটার) নিচে নেমে আসে। এ সময় উড়োজাহাজটি থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত, পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপর সংকেত ও পরবর্তীতে আবারও সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।
উড়োজাহাজে থাকা একাধিক ইসরায়েলি যাত্রীর বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ককপিটে থাকা ওমানি জাতীয়তার এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করেন ও ককপিট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালান। হামলাকারী পাইলট উড়োজাহাজটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা দেখে উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অবস্থা বেগতিক দেখে উড়োজাহাজে থাকা কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান ও হামলাকারী পাইলটকে কাবু করতে সহ-পাইলট ও ক্রুদের সহায়তা করেন। উড়োজাহাজের পেছনের দিকে থাকা আরও দুই পাইলটকে দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বলা হয়। যাত্রীরা হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। হামলায় গুরুতর আহত প্রধান পাইলটকে উড়োজাহাজে থাকা একজন ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জীবন রক্ষা করেন।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দেশটির বিমানবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয় ও সাময়িকভাবে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরিস্থিতির কারণে সেনাপ্রধান আইয়াল জামির তার নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ও সৌদি আরবে থাকা ইসরায়েলি যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ একে একটি সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ফ্লাইদুবাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইটটিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে। উড়োজাহাজের সব যাত্রী ও ক্রু সুরক্ষিত আছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আহত দুই পাইলটকেই স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক