সুপার কম্পিউটারকেও হারাবে ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ : ট্রাম্পের দুই নির্বাহী আদেশ
ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) তিনি এমন দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা বর্তমান যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারকেও পেছনে ফেলতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে। খবর এএফপির।
বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির দৌড়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে আইবিএম, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো মার্কিন টেক জায়ান্টরা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম বড় আকারের বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাজারে আনা। তবে প্রেসিডেন্টের নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে ২০২৮ সালের মধ্যেই বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপযোগী একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা সম্ভব হয়। হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাতসিওস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাধারণ কম্পিউটার যেখানে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ‘বিট’ ব্যবহার করে- যা কেবল (বন্ধ) অথবা ১ (চালু) হিসেবে কাজ করতে পারে; সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে ‘কিউবিট’। এই কিউবিট একই সময়ে ০ এবং ১ উভয় অবস্থাতেই থাকতে পারে। এই অনন্য ক্ষমতার কারণে কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলো একসঙ্গে কোটি কোটি সম্ভাবনা বা হিসাব মুহূর্তের মধ্যে কষে ফেলতে পারে, যা আজকের সাধারণ কম্পিউটারের পক্ষে অসম্ভব।
অবশ্য গবেষকেরা জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলো বর্তমানে সাধারণ ল্যাবের বাইরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনও অনেক বেশি ভুল করে থাকে, যা দূর করার কাজ চলছে। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি হতে যাওয়া এই প্রাথমিক মডেলটি বেসরকারি খাতের প্রতিশ্রুত কম্পিউটারের চেয়ে কিছুটা কম ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপযোগী এই কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে একটি প্রাথমিক ধাপ বা ‘স্টেপিং স্টোন’ হিসেবে দেখছি, যা ভবিষ্যতে আরও বড় এবং আরও সক্ষম সিস্টেম তৈরির পথ সুগম করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি মূলত সাইবার নিরাপত্তা এবং ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ সম্পর্কিত। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষমতা এতই বেশি যে তা বর্তমান যুগের যেকোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা কোড বা এনক্রিপশন ভেঙে ফেলতে পারে। তাই এই আদেশটি এমন এক উন্নত এনক্রিপশন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে, যা ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাইবার আক্রমণকেও রুখে দিতে পারবে। ক্রাতসিওস জানান, এই আদেশের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ‘কোয়ান্টাম-প্রুফ’ বা কোয়ান্টাম-সুরক্ষিত ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক