সুদের হার বৃদ্ধির আভাসে স্বর্ণের দামে বড় ধস
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো আভাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির দিকেও কড়া নজর রাখছেন। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক সময় সকাল সাতটা ৫৩ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে চার হাজার শূন্য ৯৯ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম দুই শতাংশ কমে চার হাজার ১১৭ দশমিক ৭০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমায় চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও শক্তিশালী ডলারের চাপে তা ধরে রাখা যায়নি। মার্কিন ডলারের দাম বর্তমানে প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে, যা অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি স্পট সিলভার বা রোপার দাম পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম তিন শতাংশ কমে এক হাজার ৬২৮ দশমিক ৫৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম দুই দশমিক নয় শতাংশ কমে এক হাজার ২২৯ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অধীনে কঠোর আর্থিক নীতির কারণে ডলারের দাম বাড়ছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেডের বৈঠকের আগে ছিল মাত্র ৬১ শতাংশ। এছাড়া শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি জানিয়েছেন, শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকায় তারা এখন উচ্চ শুল্কের প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানের পর মুদ্রাস্ফীতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন।
এদিকে ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। প্রাথমিক শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। একই সাথে লেবাননেও যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে এই আলোচনাকে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির একটি ভালো ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন, যদিও ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী বৃহস্পতিবার প্রকাশ হতে যাওয়া মার্কিন পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার বা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক সূচক।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক