ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, এক লাফে বাড়ল দাম
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে বিশ্ববাজারে ইরানি তেল বিক্রির সাময়িক ছাড়পত্র বাতিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে গত ২৫ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের নোটিশটি প্রকাশ করে অবিলম্বে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে ইরানের তেলের উৎপাদন, সরবরাহ বা বিক্রির সমস্ত প্রক্রিয়া গুটিয়ে নিতে হবে, যার পূর্ববর্তী সময়সীমা ছিল ২১ আগস্ট পর্যন্ত।
আরও পড়ুন : ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী-সন্তানসহ গাড়ি খাদে ফেলেও আইনি মুক্তি চিকিৎসকের
আরও পড়ুন : হামলার জবাবে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। শেষ মুহূর্তের লেনদেনে দেখা যায়, মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় পাঁচ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৫.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলারের ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা বন্ডের মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার সুদের হারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। তেলের বাজারে এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। দিনের শেষে মার্কিন শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমে বন্ধ হয়েছে এবং প্রযুক্তি খাতের নাসডাক ১০০ সূচকে বড় পতন হয়েছে। মূলত বিশ্বখ্যাত চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের শেয়ারের দরপতন এবং চীনের এআই স্টার্টআপ ডিপসিক কর্তৃক নিজস্ব চিপ তৈরির খবরের কারণে প্রযুক্তি বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন : ইরাকে পৌঁছাল খামেনির মরদেহ, জানাজায় জনসমুদ্র
আরও পড়ুন : চলন্ত বাইকে চিতাবাঘের আক্রমণ, সিসিটিভিতে হাড়হিম করা দৃশ্য
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অজ্ঞাত ড্রোন এবং অন্যটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। ওমান উপকূলে আক্রান্ত অপর একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল রেকায়াত নামের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিনে আগুন লাগায় সেটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক