বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৯.১৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে রোববার (১২ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানি বাহিনী সেটিতে হামলা চালায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এদিকে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ পুনরায় সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজগুলো নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা পাবে না। কোনো অননুমোদিত রুট ব্যবহার করলে তার দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী ও অধিনায়কের ওপর বর্তাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন করে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। অথচ চলতি মাসের শুরুতে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২২টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানকার অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক মুকেশ সাহদেভ মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আইজি অস্ট্রেলিয়ার বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান ইয়িপ বলেছেন, বর্তমান উত্তেজনায় তেলের দামে ঝুঁকিজনিত প্রিমিয়াম যুক্ত হলেও যুদ্ধের শুরুতে দেখা সর্বোচ্চ মূল্যস্তরে আবার পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, বৈশ্বিক চাহিদা এখনও দুর্বল এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৫ শতাংশের বেশি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় ০.২ শতাংশ কমে যায়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক