চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১১, নিখোঁজ ৫০
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর চংশিংয়ে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের বিশাল ধসে এখনও অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
গত ১৭ জুলাই সকালে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর চংশিংয়ের মূল শহর থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দূরের নয়নাভিরাম পংশুই কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে তীব্র বেগে নিচে থাকা নদী তীরবর্তী আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে একাধিকবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো সত্ত্বেও আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়ার আশা মিলছে না। অভিযানটি এখন কেবল মরদেহ উদ্ধার প্রচেষ্টায় চলছে।
উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের অবশিষ্টাংশ খুঁজে বের করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ভূমিধসে ৮ জনের মৃত্যু এবং ৩৪ জন নিখোঁজের তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে বিশাল আকৃতির পাথর কেটে পথ তৈরি করতে উদ্ধারকারী দলগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণও ঘটিয়েছিল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ, বিশাল আকৃতির পাথরের স্তূপ, উদ্ধারকাজের জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ জায়গা ও পাহাড়ের ঢালু অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার কারণে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চীন বিশ্বজুড়ে ভূমিধসপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম। গত এক দশকে দেশটিতে অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের ভয়াবহ ভূমিধসে প্রায় ২৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রযুক্তি নগরী শেনঝেনের একটি শিল্প পার্কে নির্মাণ বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম চরম বিপর্যয়। সূত্র : রয়টার্স

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক