কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞায় অনড় অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে আবারও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী সোশাল মিডিয়া ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে- এমন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পরও নীতিমালা বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান জানিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্সের।
শনিবার (১ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই যুগান্তকারী নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। সরকারের প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রু লি এক টেলিভিশন বক্তব্যে জানান, শতভাগ আইন প্রয়োগ সম্ভব না হলেও এই উদ্যোগ শিশুদের অনলাইন ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তাভাবনায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি’ এক গবেষণায় জানায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের হারে তেমন পরিবর্তন আসেনি। সমীক্ষায় দেখা যায়, ১০ জন কিশোরের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি এখনও নিয়মিত সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে চলেছে।
এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রু লি বলেন, ‘আমরা কখনোই আশা করিনি এই আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন হবে। ন্যূনতম মদ্যপানের বয়সসংক্রান্ত আইনেও শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করা যায় না, তারপরও যেমন সেই আইন জরুরি, এই আইনও ঠিক তেমনই প্রয়োজনীয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে লাখ লাখ সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষায় গৃহীত অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপে মার্কিন ভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করলেও বিশ্বজুড়ে এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও করছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক