ইসরায়েলের ফের হামলায় নিহত ৫ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) গাজা সিটির একটি মিউনিসিপ্যাল পাবলিক পার্কের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ভিড় লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন প্রাণ হারান। এ হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
অন্যদিকে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় তাল আল-হাওয়া এলাকায় গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো পৃথক বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বরাবরের মতো কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই নিহতদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সোমবার হামলায় নিহতদের মরদেহ স্বজনরা গাজার সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ধর্মীয় আচার শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন।
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও গাজাজুড়ে ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এর আগে রোববার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে ইসরায়েলি হামলায় এক তিন বছরের শিশুসহ ২ ফিলিস্তিনি এবং শনিবারের হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হন।
ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে নিহত এক ফিলিস্তিনির স্বজন আমজাদ আবু আবদো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে বলতে গেলে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজাবাসী একটা ভালো দিনও দেখেনি। ড্রনের শব্দে আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না, সবসময় বোমা হামলার আতঙ্কে দিন কাটে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অক্টোবরে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় ১ হাজার ৩১৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে গত শনিবার ‘প্যালিস্টিনিয়ান সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফোরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসন্স’ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আনুমানিক ৪ থেকে ৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অক্টোবরের পর থেকে তাদের মাত্র ৫ জন সদস্য এবং ১ জন বেসামরিক ঠিকাদারের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৫০০ জনের কাছাকাছি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক