স্কুলে বিনামূল্যে দেওয়া খাবার খেয়ে তিন দিনে অসুস্থ ১৭০০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী
বিনামূল্যে বিতরণ করা সরকারি খাবার (মিড-ডে মিল) খেয়ে ইন্দোনেশিয়ার ‘সেন্ট্রাল জাভা’ প্রদেশে নতুন করে আরও ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তীব্র খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত তিন দিনে সরকারি বিনামূল্যের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া মোট মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় এক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সংসদীয় কমিটির এক সদস্য জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আলাদা তিনটি স্থানে আরও ৯৫০ জন একই কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মূলত নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য, অনুপযুক্ত খাদ্য সংরক্ষণ ও রান্নার দীর্ঘ সময় পর বিলম্বে খাবার সরবরাহের কারণেই এই ব্যাপক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন : স্কুলছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে
আরও পড়ুন : মধ্যরাতে তেল চুরি করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে ৪৩ জনের মৃত্যু
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর কোটি কোটি শিশুর পুষ্টির মান উন্নয়নে শত কোটি ডলারের এই বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু করেছিলেন। ১২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার বাজেটের এই জাতীয় প্রকল্পটি দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের ফুড পয়েন্টনিংয়ের ঘটনার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সেন্ট্রাল জাভার লাসেম এলাকার একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জুহারতুতিক জানান, বুধবার তাদের স্কুলে দেয়া গ্রিলড চিকেন বা মুরগির মাংস খাওয়ার পর ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হন। ভোর ৩টায় রান্না করা খাবার দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীদের বিতরণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদরিয়ানো সংসদে জানিয়েছেন, বিষাক্ত খাবারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে ফুড পয়েন্টনিংয়ের ঘটনার কারণে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষও এই সরকারি স্কিম নিয়ে সন্তুষ্ট নন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক