যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন : যে আসনগুলোর ফলাফলে হতে পারে বড় অঘটন!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি ট্রাম্পকে তার মেয়াদের শেষ দুই বছর বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমা—এসব কারণে ডেমোক্র্যাটরা এ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাচ্ছে। তবে জনমত জরিপে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা, নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রচারণায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কারণে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
হিসাব-নিকাশ
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বেশি জিততে হবে। কারণ, যদি ৫০-৫০ ব্যবধানে টাই হয়, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে রিপাবলিকানরাই ক্ষমতায় টিকে থাকবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এতে ২১৮ জন রিপাবলিকান, একজন রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি আসন খালি আছে। নতুন অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের নিম্নকক্ষে অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন।
সিনেট : আটটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা
নর্থ ক্যারোলাইনা : অবসর গ্রহণ করে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক গভর্নর রয় কুপার ও রিপাবলিকান নেতা মাইকেল হোয়াটলি।
জনমত জরিপে রয় কুপারের ভালো অবস্থান দেখে উভয় দলই তাদের নির্বাচনি ব্যয়ের কিছু অংশ অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে, তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সাস : ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেমস টালারিকো মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের। প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্ক থাকায় দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। প্যাক্সটনের পেছনে রয়েছে রক্ষণশীলদের একটি বড় অংশ এবং বাইরে থেকে আসা বিপুল আর্থিক সহায়তা।
ওহাইও : ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন পুনরায় জয়ের চেষ্টা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান জন হাস্টেড। যাকে জেডি ভ্যান্স ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। এটি দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচনি লড়াই। একই সঙ্গে এটি একটি পরীক্ষাও বটে—অর্থনৈতিক অসন্তোষ কি এমন একটি অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দিতে পারবে, যা সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছে?
মেইন : রিপাবলিকান সুসান কলিন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের সিনেটের সাবেক নেতা ট্রয় জ্যাকসনের বিরুদ্ধে। মেইন অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণত ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও, সুসান কলিন্স অতীতে বেশ কঠিন নির্বাচনি লড়াইয়েও টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছেন।
আলাস্কা : সাবেক ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান মেরি পেল্টোলা রিপাবলিকান ড্যানিয়েল সালিভানকে চ্যালেঞ্জ করছেন। ভোটারদের মধ্যে তার শক্তিশালী অবস্থান ট্রাম্প-সমর্থিত আরেকটি রাজ্যকে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
আইওয়া : রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক অবসরপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্টের আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে ক্রমবর্ধমান কৃষি ও জ্বালানি খরচকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।
কানসাস : ডেমোক্র্যাটিক যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান রজার মার্শালকে চ্যালেঞ্জ করছেন। এ অঙ্গরাজ্য থেকে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর নির্বাচিত হননি। জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়ায় ট্রাম্পকে মার্শালের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
মিশিগান : এখানে রিপাবলিকানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন দখলের সুযোগে। অবসর এনয়া ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে সাবেক কংগ্রেসওম্যান মাইক রজার্স প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা
নিউইয়র্কের ১৭তম ডিসট্রিক্ট : হাডসন ভ্যালির এই আসনে রিপাবলিকান মাইক ললার ডেমোক্র্যাট কেইট কনলির মুখোমুখি হচ্ছেন। এ আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস জিতেছিলেন।
নেব্রাস্কার ২য় আসন : রিপাবলিকান ডন বেকন অবসর নেওয়ার ফলে ওমাহা-এলাকার একটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। যেখানে রিপাবলিকান ব্রিঙ্কার হার্ডিং ও ডেমোক্র্যাট ডেনিস পাওয়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পেনসিলভানিয়া : রিপাবলিকান বর্তমান সদস্য রায়ান ম্যাকেঞ্জি, রব ব্রেসনাহান ও স্কট পেরি ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। নিকটবর্তী নিউ জার্সির৭ম জেলাটিও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রয়েছে। সেখানে রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান টম কিন জুনিয়রকে চ্যালেঞ্জ করছেন।
ভার্জিনিয়ার ২য় আসন : ডেমোক্র্যাট এলেইন লুরিয়া উপকূলীয় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন, যা তিনি ২০২২ সালে রিপাবলিকান জেনিফার কিগানসের কাছে হারিয়েছিলেন।
আইওয়া : রাজ্যের পূর্ব ও মধ্যভাগের তিনটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছে কিনা তার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
জোয়ারের লক্ষণ?
ডেমোক্র্যাটিকদের অগ্রগতির মাত্রা বোঝার জন্য ভার্জিনিয়ার দুটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসনের দিকে নজর রাখতে হবে। প্রথমটিতে শ্যানন টেলর রবার্ট উইটম্যানকে চ্যালেঞ্জ করছেন এবং অন্যটিতে সাবেক কংগ্রেসম্যান টম পেরিয়েলো জন ম্যাকগুইরকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লড়ছেন।
কেনটাকির রিপাবলিকান-আধিপত্যের ষষ্ঠ ডিসট্রিক্টে ডেমোক্র্যাটদের জয়, অথবা ফ্লোরিডার ১৩তম ও উইসকনসিনের ১ম আসনে রিপাবলিকানদের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ও একইভাবে একটি বিশেষভাবে ব্যাপক নির্বাচনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।
অন্যদিকে, নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাটরাও নিজস্ব ঝুঁকির মুখে পড়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে আলাবামার ২য় নির্বাচনি এলাকা। সেখানে শোমারি ফিগারস তার আসনটি ধরে রাখার লড়াই করছেন। টেক্সাসের ৩৪তম নির্বাচনি এলাকায় ভিসেন্তে গঞ্জালেজ রিপাবলিকান এরিক ফ্লোরেসের মুখোমুখি হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক