১১ মাস পর মুক্তি পেলেন সিদ্দিক: রেখেছেন দাড়ি, মন দিয়েছেন ধর্মচর্চায়
এক সময় ছোটপর্দায় নিয়মিত দেখা যেত সিদ্দিকুর রহমান-কে। অভিনয়ের পাশাপাশি ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় হন তিনি। টাঙ্গাইল ও ঢাকা থেকে একাধিকবার নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা পাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবন যেন হঠাৎ করেই ভিন্ন পথে মোড় নেয়। নানা ঘটনায় নাম জড়ায়, তৈরি হয় মামলা। এরই মধ্যে মারধরের শিকার হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন এই অভিনেতা। এরপর টানা প্রায় ১১ মাস কারাগারে কাটাতে হয় তাকে।
দীর্ঘ সেই জেলজীবনের ইতি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মার্চ। তবে কারাগারের সময়টা তাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছে—এমনটাই বলছেন সিদ্দিক।
শুক্রবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘জেলে ১০ মাস ২২ দিন ছিলাম। ওই সময়টা আমি সঠিকভাবে ব্যবহার করেছি। আমি তো শিল্পী মানুষ—ভাবলাম, সময়টাকে কাজে লাগাই। আল্লাহই আমাকে পরিবর্তন করিয়েছেন।’
জেলজীবনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সিদ্দিক জানান, আগে ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত ছিলেন না। কিন্তু কারাগারে গিয়ে সেই অভ্যাস বদলে যায়। ‘নিয়মিত কোরআন পড়া শুরু করি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আমার মধ্যে পরিবর্তন আসে। আসলে জেলে প্রচুর চিন্তা করার সময় পাওয়া যায়। আগের সব রুটিন বদলে গেছে,’ বলেন তিনি।
কারাগারের একটি বাক্য—‘রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ’—তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে বলে জানান এই অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘যেহেতু তারা আমাকে নিরাপদে রাখবে, আমি নিজেই আমার আলোর পথ খুঁজে নিয়েছি।’
শুধু মানসিক পরিবর্তনই নয়, সৃজনশীল কাজেও সময় দিয়েছেন তিনি। জেলে বসে ১৫টি নাটক ও ৩টি সিনেমার গল্প লিখেছেন বলে জানান সিদ্দিক। পাশাপাশি নিজের জীবন, জেলজীবন এবং পরিবর্তনের গল্প নিয়ে একটি বইও লিখছেন তিনি।
তবে মুক্তির পরও সেই সময়ের প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ‘এখনও ট্রমা আছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে আগের রুটিনে ফিরতে সময় লাগছে,’ বলেন তিনি।
বর্তমানে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান। কারাগারে লেখা গল্পগুলো গুছিয়ে নতুন করে কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই আবারও নিয়মিত কাজ শুরু করবেন—এমনটাই ইঙ্গিত তার কথায়।

বিনোদন ডেস্ক