রাজনীতিতে আসতে চাপ দেয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন থালাপতি
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই রাজ্যের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে টিভিকে। এখন তিনি নিজেই রাজনীতির ময়দানে অন্যতম আলোচিত মুখ, এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে আছেন তিনি।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গঠিত টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়েছে। একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে থালাপতি বিজয়ের দল, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এনডিএ পেয়েছে ৫৩টি। এর অর্থ হলো, অভিনেতার নেতৃত্বাধীন এই নবীনতম দলটি সরকার গঠনের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যদিও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে আছে।
কিন্তু একটা সময় ছিল যখন বিজয় একেবারেই রাজনীতিতে আসতে চাননি। এমনকি তাকে রাজনীতিতে আসতে চাপ দেওয়ার জন্য তিনি তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন।
বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ২০২০ সালে অভিনেতার আগে থেকেই বিদ্যমান ফ্যান ক্লাবকে একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াকাম’ (ভিএমআই) নামে একটি রাজনৈতিক দল শুরু করেন। চন্দ্রশেখর দলটির সাধারণ সম্পাদক হন, আর তার স্ত্রী ও বিজয়ের মা, শোভা চন্দ্রশেখর, কোষাধ্যক্ষ হন। কিন্তু দৃশ্যত, তারা এই বিষয়ে তাদের ছেলের সাথে পরামর্শ করেননি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে প্রকাশ্যে নিজেকে সামাজিক কল্যাণমূলক সংস্থা ‘বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’ (ভিএমআই) থেকে দূরে সরিয়ে নেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যেখানে তার মা-বাবাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরে তিনি জানান, ওই দলের সঙ্গে তার সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এরপরই তার অবস্থানে আসে বড় পরিবর্তন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই অবস্থান। সবকিছুর পর অবশেষে ২০২৪ সালে তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে দল গঠন করেন। এখন তিনি নিজেই রাজনীতির ময়দানে অন্যতম আলোচিত মুখ, এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে আছেন তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিনোদন ডেস্ক