অ্যাজমার চিকিৎসায় সতর্কতা কি জরুরি?
অ্যাজমা হলে অনেক সময় ইনহেলার বা নেবুলাইজার দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিনের ২৪৪২তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক।
বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : ইনহেলার বা নেবুলাইজেশন চিকিৎসা নেওয়ার পর কী কোনো সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
উত্তর : এটা সাময়িক চিকিৎসা। নেবুলাইজেশন দিয়ে শ্বাসকষ্ট কমে গেল। কিন্তু আপনাকে পরে চিকিৎসা দিতে হবে। বারবার যেই শ্বাসকষ্ট হয় এগুলো হঠাৎ করে হলো, চিকিৎসা নিলে দেখা যায় দীর্ঘদিন সে ভালো আছে। যখন শ্বাসকষ্টটা ক্রনিক হয়ে যাবে যে সব সময়ই তার শ্বাসকষ্ট অল্প অল্প আছে, তখন তার দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য আরো নতুন নতুন ওষুধও আছে। মন্টিলুকাস্ট- এটা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কাজেই যদি ক্রনিক হয়ে যায়, বা বারবার হয়, সেই ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ আমরা ব্যবহার করি। একটি হলো স্টেরয়েড, অথবা আমরা মন্টিলুকাস ট্যাবলেট দিই ১০ মিলিগ্রাম। তাহলেও তার এই সমস্যাটি কম হবে।
প্রশ্ন : শ্বাসকষ্টের ক্রনিক রোগীদের চিকিৎসা করে কতটুকু ফলাফল পাওয়া যায়?
উত্তর : অসুখেরও তো বয়স আছে। অসুখের যখন বয়স বাড়তে থাকে, তার জটিলতাও বাড়তে থাকে। যাদের অনেক দিন হয়ে গেছে ১৫ বছর, ২০ বছর, ২৫ বছর, তারা ওষুধ নিয়ে নিয়ে ভালো আছে। তবে শেষের দিকে তার জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন কাশতে কাশতে অনেক সময় ফুসফুসে হয়তো ফুটো হয়ে যেতে পারে। সে হয়তো শ্বাস ঠিকমতো নিতে পারবে না। তার শ্বাসকষ্ট বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় যাবে যে সে কথাই বলতে পারছে না, শ্বাসও নিতে পারছে না। এ রকম জটিল ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকে যারা তাদের আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। দীর্ঘদিন ভোগার পর যদি সে আসে, সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হবে। তখন আমরা সেই চিকিৎসা করি যেটাতে সে স্বাভাবিক থাকবে। আর যদি অল্প অল্প থাকে, তাহলে তাকে নেবুলাইজার ব্যবহার করে বা ইনহেলার ব্যবহার করে রাখতে হবে।

ফিচার ডেস্ক